মিশরীয় পুরানের শক্তিশালী চরিত্র আইসিস ও ওজাইরিসের করুণ প্রেমের গল্পগাথা; লেখা হয়েছে আসোয়ানের ফিলাই টেম্পলে বসে। ইজিপ্টোলজির মূল দর্শন জানতে পড়ুন।

Share on social media

দেবী আইসিসের নামে শপথ করে বলছি, এই মন্দিরের সবচে’ পবিত্র স্থানেই তোমরা দাঁড়িয়ে আছো। এটিই রাজা ওজাইরিসের মূল প্রার্থনাকক্ষ। প্রার্থনা বেদির উপর স্থাপিত এই অমসৃণ প্রস্তরখণ্ড ওজাইরিস স্বর্গ থেকে নিয়ে আসে মর্ত্যে। উল্কার রূপে। উপরে ঐ যে ছোট্ট ঘুলঘুলি, ঐখান দিয়ে সূর্যের এক টুকরো করুণ আলোকরশ্মি প্রস্তরখণ্ডে এসে প্রতিফলিত হতো। আজ আর জৌলুস কিছু অবশেষ নেই। ধ্বংসস্তুপ মাত্র। গত পাঁচ হাজার বছর ধরে আমি এখানে আছি। এই প্রস্তরখণ্ড আগলে রেখেছি। বলতে পারো, এখন আমিই এ মন্দিরের প্রধান সেবায়েত।’

কী বলে বৃদ্ধ লোকটা! পাঁচ হাজার বছর!! পাঁ-চ হা-জা-র বছর!!! বৃদ্ধের দু’চোখ ঠিকরে যেন দ্যুতি বের হচ্ছে। তাকে অস্বীকার করা কঠিন। এড়িয়ে যাওয়া যায় না। পরনে লম্বা আলখাল্লা। ময়লা জলপাই রঙের। আজানুলম্বিত। মাথায় নোংরা কালো পাগরি। মুখ ভরা খোঁচা খোঁচা দাড়ি। তার দু’পাশে আরও দুই বৃদ্ধ, কালো লাঠি হাতে। তাদের আলখাল্লা ধূসর। আপাত সবই নুবিয়ানদের সাধারণ পোশাক। প্রথম দেখায় মনে হবে এরা প্রহরী বৈ তো নয়।

সুদান সীমান্ত সংলগ্ন মিশরের সর্বদক্ষিণের গভর্নরেট আসোয়ানের ফিলাই টেম্পলের মূল প্রার্থনাকক্ষটি প্রকৃতই বিশেষ। মস্তিষ্ক অবশ করে দেয়ার মতোন ঐশ্বরিক। চারদিকেই উঁচু স্টোনের দেয়াল। প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা জুড়ে মিশরীয় দেব-দেবীদের নানান ধর্মীয় রিচ্যুয়ালের খোদাই চিত্রকলা। এখনো সজীব। রঙিনও। দেয়ালের নিচু থেকে কৃত্রিম আলোর প্রক্ষেপণ চিত্রকর্মগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। কক্ষের মাঝখানে বেদি, লাল গ্রানাইটের বিশেষ স্তম্ভ। পূর্ব দেয়ালের উপরের দিকে একটি মাত্র ঘুলঘুলি। ভেন্টিলেশন।

লোকটা বলে চলে, ‘ওজাইরিস প্রার্থনাকক্ষে প্রবেশ করলে এর একমাত্র দ্বার বন্ধ করার দায়িত্ব ছিল আমার। ওজাইরিসকে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে আমি বন্ধ দ্বারের বাইরে পাথরের মত ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতাম। তোমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারো, এই দ্বার তামারিস্ক বৃক্ষের তৈরী। কেবল বিশালই নয়, ভারীও বটে। ওজাইরিস মন্ত্রপাঠ করে চলতো উচ্চস্বরে। শক্ত দুহাত বুকের উপর ক্রস করে চেপে ধরা। একসময় শুরু হতো আর্তনাদ। চিৎকার। ঘণ্টা, প্রহর, দিন, রাত্রি পেরিয়ে যেতো। আমি দরজার বাইরে সেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে।’

আমার মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। অনেক ধকল গেছে সারা রাত। কাল কায়রোর হোটেল আমারান্তে পিরামিড থেকে বেরিয়েছি মধ্যরাতে। ইজিপ্ট এয়ারের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দু’ঘণ্টায় আসোয়ানে পৌঁছে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ১২শ’ কিলোমিটার যাত্রা বলে কথা। আমি কি ভুল দেখছি! ইল্যুউশন তৈরি হচ্ছে দু’চোখে? যুক্তি ও কল্পনা মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে এই ভরদুপুরে?

দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে, কমছে। আমাদের পাশ দিয়ে, পাশ কাটিয়ে ঘুরে যাচ্ছে তারা। কেউ মনোযোগ দিচ্ছে কি আমাদের প্রতি? মনে হচ্ছে না। ইকুয়েডরের জেসিকা মেরেসি ভয়ে আমার হাত চেপে ধরেছে শক্ত করে। সালতানাত অব ওমানের ফাতমা আলাব্রি চোখ বন্ধ করে বৃদ্ধ লোকটাকে ভাষান্তর করে চলেছে। আমাদের গ্রুপের আর কেউ আছে কি আশেপাশে! নাহ, আমরা তিনজন ছাড়া আর কেউ কোথাও নেই।

‘প্রার্থনাকক্ষে দেবতা ওজাইরিস পিতা ঈশ্বর গেবে’র সাথে গভীর যুক্তিতর্কে জড়িয়ে পড়তো। আলোচনায় থাকতো সুশাসন, শান্তি লাভ, পুনর্জন্ম ও মৃত্যুর পরের অনন্ত জীবনে ফিরে যাওয়ার বাতেনি সব বিষয়বস্তু। আমার মনে হতো ওজাইরিস এই কিংশিপ উপভোগ করছে না। পিতা ঈশ্বর গেব ওজিইরিসকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে প্রেরণ করেছেন মিশর শাসনের জন্য। পিতার এ সিদ্ধান্তে ওজাইরিস হয়তো খুশি নয়। বিশেষ করে ছোট ভাই দেবতা সেথকে নিয়ে সে খুবই চিন্তিত। সেথের মূল কাজ ছিল ওজাইরিসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। আমি সবসময় সন্ত্রস্ত থাকতাম, কখন জানি সেথ বিষাক্ত মেইসের আঘাতে ওজাইরিসকে খুন করে বসে।’

আমি প্রাচীন মিশরীয় পুরাণের জটিল গোলক ধাঁধাঁয় আটকে যাচ্ছি এক উন্মাদ বৃদ্ধের পাল্লায় পড়ে। রেডস্টোনের স্ট্যাচুর মতো স্থবির দাঁড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতোন ওর কথা গিলে চলেছি। অথচ এসেছিলাম মিশরের সবচেয়ে প্রাচীন ‘ফিলাই টেম্পল’ দেখতে। আসোয়ান শহরের বাইরে এগিলকিয়া পাহাড়ের চূড়ায় এর অবস্থান। শুনে এসেছি, প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় মন্দিরটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আমাদের গাইড তারেক রেড্ডি জানিয়েছে, এই মন্দিরের সঙ্গে দেবী আইসিস আর দেবতা হোরাসের গভীর সংযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে তো সব টেম্পল একই রকম মনে হচ্ছে! দ্য গ্রেট গিজা পিরামিড, স্টেপস পিরামিড আর কায়রো মিউজিয়ামের অগণিত নির্দশন, কিংবা আসোয়ানের আবি সিম্বল টেম্পলের মহাসুন্দরী ফারাও রাণী নেফারতারি, কিংবা কোম্ব-অম্বুর কুমির মন্দির আর এডফু টেম্পলের সুবর্ণ ভবতরী। ওদিকে লুক্সরের ভ্যালি অব দ্য কিংসের গহীনে ফারাওদের সারি সারি সমাধি গুহা, কিংবা কর্নাক টেম্পলের মায়াবি হিপোস্টাইল হল।

বদ্ধ প্রার্থনাকক্ষের ভেতরে প্রাচীন বৃদ্ধ দ্বাররক্ষীর অদ্ভুত কন্ঠস্বর গমগম করতে থাকে। ‘ফিলাই কোন সাধারণ টেম্পল নয়। তোমরা জেনে রাখো। এখানে স্বয়ং দেবতা ওজাইরিসের পবিত্র দেহ চিরসমাহিত। তোমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছো, হ্যাঁ, ঐ প্রার্থনাবেদির ঠিক পাশেই। আমি তার সাক্ষি।

‘স্বর্গের ঈশ্বর গেব ও ঈশ্বরী নাট তাদের চার সন্তানকে মর্ত্যে প্রেরণ করেন। দুই পুত্র ওজাইরিস ও সেথ। দুই কন্যা আইসিস ও নেপথিস। উদ্দেশ্য মিশরে কিংশিপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কসমসের সাথে মর্ত্যের সংযোগ স্থাপন করা। জ্যেষ্ঠপুত্র ওজাইরিস মিশরীয় কিংশিপের সিংহাসন লাভ করে। মিশরে মানুষের রূপধারী ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। বোন আইসিসকে বিয়ে করে ওজাইরিস। ছোটবোন নেপথিসও ভালবাসে তাকে। মর্ত্যে স্বর্গের শান্তি নেমে আসে। প্রাচীন মিশরবাসী সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। দিকে দিকে আইসিস-ওজাইরিসের নামে মানুষ স্তুতিবাক্য পাঠ করতে থাকে। মূর্তি গড়ে পুজোর নৈবেদ্য সাজাতে থাকে নীল নদের এপারে ওপারে।’

গনগনে আফ্রিকান সূর্য মাথায় নিয়ে এগিলকিয়ার চূড়ায় এসেছি। নভেম্বরের নাম নিশানা এখানে নেই। যদিও দিনটা ভালই শুরু হয়েছিল। সকালে ঘুমচোখে আসোয়ানের পিচ্চি এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে দেখি ইয়া সাইজের শীতল একটা বাস আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। নীলনদের উপরে লোয়ার আসোয়ান ড্যাম পেরিয়ে, লাল-কালো পাথুরে পর্বতমালা ছাড়িয়ে শহরের মধ্যিখানে বাসমা হোটেল। ভীষণ সুন্দর। বিশালও। নুবিয়ান মিউজিয়ামের পাশেই একটা পাহাড়ের চূড়ায়। চারদিকে আসোয়ান শহর সকালের সোনালি রোদে ঝিকমিক করছে। রুমে ঢুকে পেছনের বারান্দায় দাঁড়াতেই চোখ ছানাবড়া। দু’পাশের পাথুরে পর্বতমালার মধ্যিখান দিয়ে অপরূপ নীলনদ বয়ে চলেছে। আর সাদা সাদা পাল উঁচিয়ে গর্বিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যাচ্ছে সারি সারি ফাল্লুকা। অসাধারণ দৃশ্য।

দুপুর গড়িয়েছে। চারটার মধ্যে টেম্পল ক্যাম্পাসে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের গ্রুপের কাউকেই কাছাকাছি দেখতে পাচ্ছি না। এগিলকিয়া পর্বতের চূড়ার এ টেম্পল থেকে ফেরার পথ সহজ নয়। পর্বতের চারদিকে গাঢ় নীল লেক নাসের। ষাটের দশকে নীলনদের উপর হাই-আসোয়ান ড্যাম নির্মাণের ফলে আটকে পড়ে এ জলরাশি। এখানে কুমির বাস করে। এ জলরাশি পেরিয়েই ফিলাই টেম্পলে আসতে হয়। বাহন ইঞ্জিন চালিত বোট। স্থলভাগে ঘাটের দূরত্ব আধাঘণ্টার মতো। ভাড়া জনপ্রতি দশ পাউন্ড। তবুও অচেনা পথে সহপাঠীরা এখানে ফেলে গেলে বিপদে পড়তে হবে।

কিন্তু ফিলাই টেম্পলের মূল প্রার্থনাকক্ষের ভেতরে এই অদ্ভুত ইজিপ্সিয়ান বৃদ্ধকে এড়ানো যাচ্ছে না। যদিও আইসিস-ওজাইরিসের কাহিনী আমাদের মহাভারতের চরিত্রগুলোকে ছাপিয়ে যেতে পারছে না কোন দিকেই। প্রাচীন সভ্যতার ঐশ্বরিক চরিত্রগুলো ঘুরে ফিরে একই রকম কি?

‘না, না, তুমি যেমন ভাবছো ব্যাপারটা তেমন নয় আদৌ। আমি কেবল মহান শাসক, দেবতা ওজাইরিসের স্তব করছি না। আমি অন্য এক দায়ে এই টেম্পলে রয়ে গেছি। তোমরা জেনে রাখো, আইসিস-ওজাইরিস ব্যতীত প্রাচীন মিশরীয় ধর্মীয় ইতিহাস বিশাল এক শূন্য মাত্র। আমি আইসিস-ওজাইরিসের অনন্যসাধারণ প্রেমের পূজারি। নারী-পুরুষের প্রেমের সার্থক স্রষ্টা তারাই। এমন প্রেম আর কেউ কখনো দেখেনি কোথাও। গত পাঁচ হাজার বছরেও।

‘আইসিস-ওজাইরিসের এই মহামানবিক প্রেম তাদের ছোটভাই সেথ মেনে নিতে পারেনি। বোন আইসিস ও নেপথিস দুজনকেই সে কামনা-সঙ্গী করতে চেয়েছে। ওদিকে কিংশিপের ক্ষমতালোভও তাকে ক্ষ্যাপা কুত্তার মতোন হিংস্র করে তোলে। সে অসহিষ্ণু, ষড়যন্ত্রকারী, হিংসুটে হিসেবে প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম-ইতিহাসে কুখ্যাত। সে শয়তানেরই প্রতিরূপ। বড় ভাই ওজাইরিসকে খুন করে কিংশিপের শাসনভার এবং দুই বোনকে করায়ত্ত্ব করে বিকৃত যৌনকামনা চরিতার্থ করাই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। তার এই চরিত্র সম্পর্কে আইসিস-ওজাইরিস অবহিত ছিল। কিন্তু আপন ছোটভাই যে! কী করে ওজাইরিস তাকে শাস্তি দিতে পারে! এ কারণে তার সকল অনুযোগের জায়গা ছিল পিতা ঈশ্বর গেবের নিকট। এই প্রার্থনাকক্ষের মন্দির বেদির সামনে দাঁড়িয়ে একান্তে পিতার সাথে ওজাইরিসের এ বিষয়ে দীর্ঘ কথোপকথন চলত। আমি বদ্ধ দ্বারের বাইরে দাঁড়িয়ে দিনের পর দিন সব শুনে গেছি।

‘কিন্তু সে’বারের ষড়যন্ত্রের কথা ঘুণাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেনি। সেথ কেবল তার বিশ্বস্ত বত্রিশজন অনুচরকে কুচক্রে সঙ্গী করে। সে বিশাল এক জলসার আয়োজন করে প্রাসাদের অদূরে রঙমহলে। অনেক অনেক পান-আহার আর অপরূপা নর্তকীদের সমাগম হয় জলসায়। সেথ অনুনয় করে। সকল ছলা-কলা প্রয়োগ করে। ওজাইরিসকে জলসায় আসতেই হবে। ওজাইরিস কিংশিপের মধ্যমণি। সে না থাকলে সব আয়োজন বৃথা। এছাড়া সেথ জলসায় এক বিশেষ চমক রেখেছে। বড় ভাইয়ের জন্য। তাই ভাই না থাকলে সে ভীষণ মনোকষ্ট পাবে।

‘রাণী আইসিস ভরসা পায় না। শয়তানটা না জানি আবার নতুন কী ষড়যন্ত্র করেছে! কিন্তু ছোট ভাইয়ের আবদার না করতে পারে না ওজাইরিস। আইসিস-নেপথিসকে প্রাসাদে রেখেই সে জলসায় অংশগ্রহণ করে। মধ্যরাত্রি পর্যন্ত চলে হুল্লোর। তুমুল আমোদ আর পানাহারে রাজকীয় অতিথিরা বুদ হয়ে আছে। অবশেষে সেথের ঘোষণা আসে। সম্মানিত অতিথিমণ্ডলী, আজকের এই সান্ধ্য-আয়োজনে আপনারা মেহেরবানি করে তসরিফ রেখে আমাকে বিশেষ সম্মানিত করেছেন। আমার ভ্রাতা রাজা ওজাইরিস প্রধান অতিথি হিসেবে এখানে উপস্থিত আছেন। তাকে আনন্দ দানের জন্য আমি এক বিশেষ চমকের ব্যবস্থা করেছি। দয়া করে আপনারা এই বেদির উপর রাখা বস্তুটির দিকে দৃষ্টিপাত করুন।

‘অতিথিবৃন্দ বেদির উপর রাখা বস্তুর উপর দৃষ্টিপাত করে। রত্নখচিত স্বর্ণেমোড়া বহুমূল্য কাঠের একটি কফিন। সেথ দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করে, এই কফিনের ভেতরে যার দেহ পরিপূর্ণভাবে স্থাপিত হবে কফিনটি হবে তার। এটি একটি খেলা মাত্র। আমোদের অংশ মাত্র। আপনারা কি চেষ্টা করবেন একে একে? ‘সত্যিই কফিনে দেহ রেখে তার মধ্যে সেঁটে যাওয়ার চেষ্টা ভাল খেলা হয়ে ওঠে ক্রমশঃ। সবাই আমোদে হৈ হৈ করতে থাকে। কিন্তু কারো দেহই কফিনে পুরোপুরি সেঁটে যায় না। কারো দেহ মোটা, কারো পাতলা। কেউ লম্বা, কেউ খাটো। নাহ্, মহামূল্যবান কফিনটি বোধহয় পাওয়া হলো না কারো! অবশেষ কেবল ওজাইরিস। সে কি একবার চেষ্টা করে দেখবে! নাহ্, সে রাজা। এমন ছেলেমানুষি তার সাজে না। একটি কফিন তো তার জন্য মামুলিই। হোক তা স্বর্ণ-রত্নখচিত। সেথ অনুনয় করে। ভাই! রাজা! দয়া করে একবার চেষ্টা করো। অতিথিবৃন্দ অনুনয় করে। রাজা ওজাইরিস, এটা কেবলই আমোদের জন্য। দয়া করে কফিনে প্রবেশ করুন। আপনার দেহ নিশ্চয়ই পুরোপুরি সেঁটে যাবে কফিনে। ওজাইরিস কফিনে দেহ প্রবেশ করিয়ে দেয়। তার দেহের সাথে পুরোপুরি সেঁটে যায় কফিন। নিখুঁতভাবে।

‘হঠাৎ মধ্যরাতের মরুর বাতাসে হায় হায় ধ্বনি ওঠে। কী করলে ওজাইরিস! কী করলে ওজাইরিস! তুমি তো দেবতা। তোমার পিতা স্বয়ং ঈশ্বর গেব। তোমাকে তো ঐশ্বরিক সকল ক্ষমতা দিয়ে মানুষরূপী শাসক করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। তুমি কী করে এমন ভুল করলে! কী করে করতে পারলে এমন ভুল, ওজাইরিস! তুমি এমনি করে সেথের শয়তানি চালে ধরা পড়লে!

‘মুহূর্তেই সেথ বিকট শব্দে কফিনের ঢাকনা সজোরে বন্ধ করে দেয়।

চার পর্বে সমাপ্ত ই-বুক

পরের তিনটি পর্ব পড়ুন:

সেই থেকে নীলের মাছেরা অভিশপ্ত (দ্বিতীয় পর্ব)

সেই থেকে নীলের মাছেরা অভিশপ্ত (তৃতীয় পর্ব)

সেই থেকে নীলের মাছেরা অভিশপ্ত (চতুর্থ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Favorite Blog

হ্যানক গাঁয়ের রঙ

কোরিয়ান স্লো-সিটি জিয়নজু’র ‘হ্যানক ভিলেজ’ ভ্রমণের গল্প। এখানে আয়োজন করে সকল আধুনিকতা বর্জন করা হয়েছে। এই জনপদে প্রবেশের পর আপনি নিজেকে হঠাৎ কয়েকশ’ বছর পেছনে আবিষ্কার করবেন।

সেই থেকে নীলের মাছেরা অভিশপ্ত (চতুর্থ পর্ব)

মিশরীয় পুরানের শক্তিশালী চরিত্র আইসিস ও ওজাইরিসের করুণ প্রেমের গল্পগাথা; লেখা হয়েছে আসোয়ানের ফিলাই টেম্পলে বসে। ইজিপ্টোলজির মূল দর্শন জানতে পড়ুন।

সেই থেকে নীলের মাছেরা অভিশপ্ত (তৃতীয় পর্ব)

মিশরীয় পুরানের শক্তিশালী চরিত্র আইসিস ও ওজাইরিসের করুণ প্রেমের গল্পগাথা; লেখা হয়েছে আসোয়ানের ফিলাই টেম্পলে বসে। ইজিপ্টোলজির মূল দর্শন জানতে পড়ুন।

Related Blog

সেই থেকে নীলের মাছেরা অভিশপ্ত (দ্বিতীয় পর্ব)

মিশরীয় পুরানের শক্তিশালী চরিত্র আইসিস ও ওজাইরিসের করুণ প্রেমের গল্পগাথা; লেখা হয়েছে আসোয়ানের ফিলাই টেম্পলে বসে। ইজিপ্টোলজির মূল দর্শন জানতে পড়ুন।

মারশা মাতরুয়াহ’র নির্জনতায় প্রেম

ভূমধ্যসাগরের তীরে মিশরের শান্ত সিগ্ধ অনন্যসুন্দর মারশা মাতরুয়াহ ভ্রমণের গল্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধিক্ষেত্র, মরুভূমির এগ্রিকালচার আর মাতরুয়াহ’র সান্ধ্য-জীবন। এক জীবনে এর চেয়ে বেশি পাবার প্রয়োজন কি!

Micro Video

Visual Storyteller

Rural Development Specialist

Bangladeshi photographer, passionate to be Visual Storyteller with special interest in people. Engaged in Government Service in the field of Rural Development & Poverty Reduction.

Bangladeshi photographer, passionate to be Visual Storyteller with special interest in people, engaged in Government Service in the field of Rural Development & Poverty Reduction.